আদার স্বাস্থ্য উপকারিতা দেখে নিন

আদার স্বাস্থ্য উপকারিতা দেখে নিন

আদার স্বাস্থ্য উপকারিতা

আদার স্বাস্থ্য উপকারিতা

আদা একটি উদ্ভিদ মূল। যা মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় অনেক জেলায় ব্যাপক ভাবে আদা চাষ হয়ে থাকে। এটি মশলা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ঔষধ ও সুগন্ধি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

সারা বিশ্বে বিভিন্ন শিল্পেই এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এখানে আমরা আদার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করবো। নিচে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

খাবার খাওয়ার পর আপনার পেট কি ভারী হয়ে যায়? আপনার কি বদহজম হয়? হজম সম্পর্কিত যে কোন সমস্যা সমাধানে আদা অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান।

এটি দ্রুত খাদ্য হজম করে পেট খালি করতে সহায়তা করে থাকে। পেটের হজম প্রক্রিয়ায় আদার এই গতিশীলতার কারণে পেটে বদহজম হয় না।

আদা হজমে সহায়তা করে বিধায় আপনার দেহের বিপাক প্রক্রিয়ায় উন্নতি ঘটবে।

ফলে আপনি শারিরীক ভাবেও অনেক শক্তিশালি হতে পারবেন। আপনি যত দ্রুত খাবার হজম করতে পারবেন তত দ্রুত খাবারের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ গুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

আদা শুধু মাত্র খাবার হজম করতেই সহায়তা করে না বরং সে খাবার থেকে দ্রুত শক্তি অর্জন করতেও সহায়তা করে থাকে।

২. রক্তচাপ কমায়

সাম্প্রতিক কালে উচ্চ রক্তচাপ মহামারী আকার ধারণ করেছে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা সমাধান করতে না পারলে আপনার হার্ট, ধমনী, মস্তিষ্ক, কিডনী ও চোখের ক্ষতি করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়  আদা ভাসোডিলিটর হিসেবে কাজ করে। এটি আপনার দেহের রক্তনালী গুলো প্রসারিত করতে সহায়তা করে।

এটি দেহের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক হতে সহায়তা করে। ফলে দেহের সামগ্রিক রক্তচাপকে হ্রাস করে। তাছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় ৪২৫ গ্রাম পটাসিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

৩. বমি ভাব দূর করে

স্বাভাবিক অসুস্থতা, অপারেশন, কেমোথেরাপি কিংবা গর্ভাবস্থায় বমি অথবা বমি বমি ভাব হতে পারে। এর ফলে একটি অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। যা কারোরই কাম্য নয়। আর আদা গর্ভাবস্থা ও কেমোথেরাপি জনিত বমি বমি ভাব দূর করতে খুবই কার্যকর।

৪. প্রদাহ হ্রাস করে

আঘাত কিংবা অসুস্থতার কারণে অনেক সময় আমরা প্রদাহ জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হই।

এমনকি সুস্থ মানুষও অনেক সময় বিভিন্ন কারণে প্রদাহ জনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন।

আদা শরীরের সামগ্রিক প্রদাহের পরিমাণ হ্রাস করতে সহায়ক। এটি শক্তিশালী প্রদাহ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

৫. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রক

বর্তমানে ডায়াবেটিস একটি কমন রোগে পরিণত হয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

আর রক্তে সুগারের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলেই সাধারণত এই জাতীয় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে হয়।

এজন্য রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। আদা রক্তের সুগারের পাশাপাশি হিমোগ্লোবিন এ১সি এর পরিমাণ হ্রাস করে।

৬. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আদা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে তা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে থাকে।