যে ৯ টি উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারেন

৯ উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারেন

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে করণীয়

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে করণীয়

উচ্চ রক্তচাপকে সাইলেন্ট কিলার হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপের বড় কোন লক্ষণ থাকে না। এটি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে প্রতি বছর সারা বিশ্বে বহু মানুষের মৃত্যূ ঘটে থাকে।

ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে। এখানে আমরা যেসব অভ্যাস পরিবর্তন করে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করবো।

কর্মঠ হোন এবং ব্যায়াম করুন

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন

রক্তচাপ হ্রাস করতে ব্যায়াম ঔষুধের চেয়ে ভালো কাজ করে। ব্যায়ামের ফলে আপনার শ্বাস প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি পায়, হার্ট শক্তিশালী হয় এবং কম খাটুঁনিতে সহজেই পাম্প হয়।

ব্যায়ামের ফলে আপনার সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপ কমে। তাই চিকিৎসকরা রক্তচাপ কমাতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। জেনে রাখুন – প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার সুফল

তাছাড়া আপনি প্রতিদিনের গৃহস্থালীর কাজ গুলো সম্পাদন করেও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব হ্রাস করতে পারেন। এক্ষেত্রে ঘর মোছা, হাড়ি পাতিল ধোয়া, কাছাকাছি কোথাও গেলে গাড়ী বা রিক্সার বদলে পায়ে হেটেঁ যাওয়া, বাইসাইকেল চালানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি কাজ গুলো বেছে নিতে পারেন।

ওজন বেশি হয়ে থাকলে কমিয়ে ফেলুন

আপনার ওজন যদি বেশি হয়ে থাকে তাহলে তা দ্রুত হ্রাস করার চেষ্টা করুন। ওজন হ্রাস করতে পারলে রক্তচাপ কমে যাবে। পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন।

কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খান

গবেষণায় দেখা গেছে যে চিনি মুক্ত ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার ওজন হ্রাস করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে। তাই খাদ্য তালিকায় চিনি যুক্ত খাবারের পরিবর্তে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

বেশি বেশি পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ও সোডিয়াম মুক্ত খাবার খান

লবণে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। আর সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। অপরদিকে পটাসিয়াম এক সাথে দুটি কাজ করে।

এটি দেহ থেকে লবণের প্রভাব কমায় এবং রক্তনালীর উত্তেজনা কমায়। তাই পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হিসেবে দধি, মাছ, কলা, কমলা, মিষ্টি আলু, টমেটো ইত্যাদি খেতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন

প্রক্রিয়াজাত খাবার গুলো সংরক্ষণের জন্য সাধারণত প্রচুর পরিমাণে লবণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আর লবণ যেহেতু রক্তচাপ বৃদ্ধি করে তাই এই সব খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার গুলোর মধ্যে মাংস, চিপস, পিজ্জা, স্যুপ ইত্যাদি অন্যতম।

ধূমপান বর্জন করুন

ধূমপান বর্জন করা সার্বিক ভাবে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। ধূমপান তাৎক্ষণিক ভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

তাছাড়া তামাকের রাসায়নিক বিষ গুলো দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পাশাপাশি ধমনী গুলোকে সংকুচিত করতে পারে। তাই রক্তচাপ সহ অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে অবশ্যই ধূমপান বর্জন করা উচিত।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমান

অতিরিক্ত চালাক লোকেরা সুখী হতে পারে না

অতিরিক্ত চালাক লোকেরা সুখী হতে পারে না

কর্মক্ষেত্র, পরিবারিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে আমরা বেশির ভাগ সময় মানসিক চাপে থাকি। কিন্তু রক্তচাপ কমাতে মানসিক চাপ কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন, বই পড়ুন এবং পরিবারকে বেশি বেশি সময় দিন। 

পরিমিত ঘুম

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমালে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। ভালো ভাবে না ঘুমালে এটি আপনার রক্তচাপকে প্রভাবিত করবে। যে সকল ব্যক্তি ঘুমের সমস্যা মোকাবেলা করেন তাদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেশি থাকে।

তাই ভালো ঘুমের জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং শয়ন কক্ষটিকে যতটা সম্ভব আরামদায়ক করুন।

অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকুন

অ্যালকোহল পান করলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এটি দেহের অন্য আরো অনেক ক্ষতি করে। তাই অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা উচিত।