কলা কেন খাবেন? দেখে নিন কলার কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা

কলা কেন খাবেন – কলার স্বাস্থ্য উপকারিতা!

কলা কেন খাবেন - কলার স্বাস্থ্য উপকারিতা

কলা কেন খাবেন – কলার স্বাস্থ্য উপকারিতা

কলা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল। এই ফলটি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। কলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি ওজন হ্রাস করে, অন্ত্রের ব্যাধি নিরাময় করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

তাছাড়া এটি উচ্চ রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতা ও হার্টের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এখানে আমরা বিভিন্ন খাদ্য গুণাগুণ সম্পন্ন এই ফলটি সম্পর্কে আলোচনা করব। নিচে তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো।

কলা সম্পর্কে কিছু  সাধারন তথ্য

কলা একটি বার মাসী ফল। এই ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম মুসা একুমিনাটা। (Musa Acuminata) বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চলে এটি চাষ করা হয়ে থাকে। এই ফলটি একটি মাংসল খোসার ভিতরে নরম মজ্জা বিশিষ্ট হয়ে থাকে।

এই ফলটি সাধারণত সবুজ, হলুদ ও বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে। এটি চিকন, লম্বা ও সামান্য বাকাঁনো হয়ে থাকে। পাকাঁ কলা সরাসরি খাওয়া গেলেও কাচাঁ কলা ভর্তা ও তরকারী হিসেবে খাওয়া যায়। health benefits of banana! 

১০০ গ্রাম পরিমাণ কলায় পানি – ৭০.১%, আমিষ ১.২% ফ্যাট (চর্বি) ০.৩%, খনিজ লবণ, ০.৮%, আঁশ ০.৪%, শর্করা ৭.২%

কলার স্বাস্থ্য উপকারিতা

কলা প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, পটাসিয়াম ও ফাইবারের চমৎকার উৎস। তাছাড়া এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, রিবোফ্লাবিন ও কলেস্টেরল বিদ্যমান রয়েছে। নিচে কলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

নিম্ন রক্তচাপ

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রক্তচাপ ঠিক রাখতে পটাসিয়াম মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। পটাসিয়াম দেহের শিরা, উপশিরা গুলোর টান উপশম করে। ফলে সহজেই সারা দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয়।

যেহেতু কলা পটাসিয়ামের সমৃদ্ধ উৎস তাই এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত সহায়ক হয়ে থাকে। তাছাড়া কলা ধমনী ও শিরা গুলো থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল দূর করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

কলা পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং যাবতীয় পেটের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত সহায়ক।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

২০১৪ সালের আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, কলায় প্যাকটিন নামক এক ধরনের পদার্থ রয়েছে।

যা ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের গ্লকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। তাছাড়া এতে থাকা ফাইবার টাইপ- ১ এবং টাইপ- ২ উভয় প্রকারের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী।

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে এবং মেজাজ ভালো করে

এক জরিপে দেখা গেছে যে, কলাতে অ্যামিনো এসিড ট্রিপটোফ্যান এবং ডোপামনের মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। যা স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিতে ও মেজাজ ভালো করতে অত্যন্ত সহায়ক।

অ্যানিমিয়া থেকে মুক্তি

কলায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। আর আয়রন রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে নিয়মিত কলা খেলে রক্ত স্বল্পতাজনিত অ্যানিমিয়া থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়।

ওজন হ্রাস করে

একটি কলায় প্রায় ৯০ ক্যালরি থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি সহজেই হজম করা যায়। তাছাড়া এতে কোন চর্বি থাকে না। ফলে এটি অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে থাকে। পড়ুন – মধুর উপকারিতা

হাড় মজবুত করে

হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়ামের ভূমিকা অত্যধিক। আর যেহেতু কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে তাই এটি হাড় মজবুত করতে অত্যন্ত সহায়ক।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে

কলায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। পাশাপাশি এতে চোখের জন্য উপকারী অন্যান্য খনিজ উপকরণ রয়েছে। ফলে এটি দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।          

কিডনীর সমস্যা দূর করে

কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম ও বিভিন্ন উপকারী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকে। যা কিডনীর বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সহায়ক হয়ে থাকে।