যদি আপনি প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন তবে এই ১০টি জিনিস আপনার দেহে ঘটবে

যদি আপনি প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন তবে এই ১০টি জিনিস আপনার দেহে ঘটবে

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন

walking exercise benefits হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম যার জন্য আপনাকে কোন টাকা পয়সা খরচ করতে হবে না। শুধু ইচ্ছা ও শক্তি থাকলেই আপনি অনাহাসে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটতে পারবেন।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটাচলা থেকে আপনার শরীরে কী ঘটে তা জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট কেন হাঁটবেন এই লক্ষে আপনাকে অনুপ্রানিত করার জন্য আজকের এই পোস্ট।  

আপনি চাইলে সকালে, বিকালে, সন্ধ্যা, কিংবা রাতে হাঁটতে পারেন। তবে সকালে হাঁটলে বেশী উপকার পাওয়া যায়। কারন সকালে শব্দ কম থাকে, ফ্রেশ বাতাস পাওয়া যায় এবং সকালের রোদ শরীরের জন্য ভাল। আসুন জেনে নেই প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার কারনসমূহ!

#১০ হাঁটলে মন ও মেজাজ ঠিক থাকে

হাঁটা আপনার মনকে প্রশান্ত করবে। আপনি যখন হাঁটতে ব্যস্ত থাকবেন তখন আপনার ভিতরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা, মেজাজ এবং চাপকে মুছে ফেলতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে সকালে হাঁটলে মেজাজ ফুরফুরে থাকে ও মন সতেজ হয়।

#৯ রাতে ভাল ঘুম হয়

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন রাতে ভাল ঘুম হয়

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন রাতে ভাল ঘুম হয়

আপনার যদি রাতে ভাল ঘুম না হয় তাহলে আপনার সারা দিন ঝিমাতে ঝিমাতে কেটে যাবে। আপনার রাতে ঘুমের সমস্যা থাকলে আজ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, হাঁটার ফলে প্রাকৃতিক ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের (Melatonin hormone) প্রভাবকে বাড়িয়ে তোলে।

#৮ হাড় এবং জয়েন্ট গুলো ভাল থাকে

হাঁটা সব থেকে সহজ একটি ব্যায়াম। তবে এই সহজ ব্যায়ামের অনেক উপকারিতার মধ্যে এটি অন্যতম। হাঁটার ফলে আপনার হাড় আরো শক্তিশালী ও জয়েন্টগুলো ভাল থাকবে। যখন আপনার হাড় এবং জয়েন্ট শক্তিশালী থাকবে তখন ফ্র্যাকচার, অচলতা এবং হাড়ের ক্ষয়ের ঝুঁকি কমে যাবে, যা সাধারণত আপনার বয়স হলে ঘটে থাকে।

#৭ ব্যাক পেইন থেকে মুক্তি পাবেন

আপনি যদি ব্যাক পেইন ভুগে থাকেন তাহলে আজ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটুন।  আপনি যখন নিয়মিত হাঁটেন তাহলে আপনার রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যাবে বিশেষত মেরুদণ্ডের কাঠামোর চারপাশে। এর ফলে ধীরে ধীরে আপনি ব্যাক পেইন থেকে মুক্তি পাবেন। তবে ব্যাক পেইন থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে নিয়মিত হাঁটতে হবে।

#৬ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যতগুলো উপায় আছে তার মধ্যে হাঁটা অন্যতম। আপনার যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিন হাঁটতেই হবে। যদি আপনার ডায়াবেটিস নাও থেকে থাকে তাহলে ডায়াবেটিস এড়াতে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটুন।

পড়ুন – লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করে যেভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করবেন

#৫ পেশী শক্ত করতে হাঁটুন

নিয়মিত হাঁটলে পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়। আপনার যদি হাঁটার অভ্যাস একদমই না থাকে তাহলে প্রথম দিন ১০ মিনিট হাঁটুন। পরের দিন ১১ মিনিট, তার পরের দিন ১২ মিনিট, এভাবে প্রতিদিন ১ মিনিট করে বাড়িয়ে দিন। আপনি চাইলে খালি পায়েও হাঁটতে পারেন। খালি পায়ে হাঁটতে গিয়ে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে, তবে কয়েকদিন হাঁটলে পেশিগুলো ভালোভাবে কাজ করবে এবং পেশির শক্তি বাড়তে থাকবে।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটেন

#৪ হজম শক্তি বাড়াতে হাঁটুন

হাঁটার মত সহজ ব্যায়ামের মাধ্যমে পাকস্থলীর থেকে হজম রস বের করতে কাজ করে। এর ফলে খাবার ভালোভাবে হজম হয় এবং ক্ষুধা বাড়ায়। তাছাড়াও হাঁটা ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

#৩ হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভাল রাখুন

সহজ কাজ করে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভাল রাখতে চাইলে হাঁটার বিকল্প নেই।  প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলে আপনার হৃদস্পন্দন ভালো থাকবে। কারন হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরের থাকা বাজে কোলেস্টেরল দূর করেই বসে থাকে না, হাঁটা ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। ফলাফল- হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।

#২ ওজন নিয়ন্ত্রণের সহজ ব্যায়ামের নাম “হাঁটা”

অতিরিক্ত ওজন কখনই কারো কাম্য নয়। আপনি যদি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণের কোন সহজ ব্যায়াম খুঁজে পান তাহলে সেটি হলো হাঁটা। আপনি যদি ঘন্টায় ৪ মাইল গতিতে হাঁটতে পারেন তাহলে ১৫০ ক্যালরি ক্ষয় করতে পারবেন।

#১ হাঁটলে স্মৃতিশক্তি বাড়বে

আমরা সবাই জানি আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। আপনি জেনে অবাক হবে যাদের বয়স ৬৫ বা এর বেশি তাদের প্রতি ১৫ জনের মধ্যে ১ জনের স্মৃতিভ্রম হয়। আবার যাদের বয়স ৭৫ বা তার বেশী তাদের ৭ জনের মধ্যে ১ স্মৃতিভ্রম হয়।

নিয়মিত যদি আপনি ৩০ মিনিট হাটেন তাহলে আপনার মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বাড়বে। এতে স্মৃতিভ্রম হওয়ার সম্ভবনা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যাদের বয়স ৭০ এর অধিক এবং তারা সপ্তাহে অন্তত ৮ কিলোমিটার হাঁটেন তাদের স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে।