মৌমাছির হুল ফোটানো নিয়ে যা জানা থাকা জরুরি!

মৌমাছির দংশন বা হুল ফোটানো খুব পরিচিত একটা ঘটনা। গ্রামে মৌচাকে ঢিল ছোঁড়ার এবং মৌমাছির তাড়া খাবার কিংবদন্তী কে না জানে? সাধারণভাবে মৌমাছি হুল ফোটালে তীব্র যন্ত্রণা হয় ও ফুলে যায়। সাধারণ ব্যাথানাশক ও সামান্য চিকিৎসায় এই ব্যাথা চলে যায়।  কিন্তু মৌমাছির হুল ফোটানোর ফলে যদি অ্যালার্জি সৃষ্টি হয় বা একসাথে অনেক মৌমাছির আক্রমন ঘটলে গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এবং এজন্য জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

মৌমাছির হুল ফোটানো থেকে কি হতে পারে?

মৌমাছির হুল ফোটানো থেকে ব্যথা, অস্বস্তি, ফুলে ওঠা থেকে শুরু করে গুরুতর এলার্জির আক্রমন পর্যন্ত হতে পারে।

কম প্রতিক্রিয়াঃ

বেশিরভাগ সময় মৌমাছির হুল ফোটা থেকে যে উপসর্গগুলি দেখা যায় সেগুলো হলোঃ

  • স্টিং সাইটে তাৎক্ষণিক তীক্ষ্ণ জ্বালাময়ী ব্যথা
  • যেখানে স্টিং করেছে সেখানে একটি লাল সুচালো মুখ
  • স্টিং এরিয়ার চারপাশ ফুলে যাওয়া

বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এই ফোলা এবং ব্যথা কয়েক ঘন্টার মধ্যে চলে যায়।

মাঝারি প্রতিক্রিয়াঃ

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মৌমাছি বা অন্যান্য পোকার দংশনে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

  • চরম লাল হয়ে যাওয়া
  • স্টিং সাইটে ফোলা ধীরে ধীরে পরের দিন বা দুই দিন যাবত ফুলে বড় হয়ে যাওয়া
  • জ্বর হওয়া

মাঝারি প্রতিক্রিয়াগুলি সাধারণত ৫-১০ দিনের মধ্যে চলে যায়।

গুরুতর এলার্জি প্রতিক্রিয়াঃ

মৌমাছির হুল ফোটা থেকে গুরুতর এলার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে, যাকে বলা হয় অ্যানাফিল্যাক্সিস। এটা অনেক সময় প্রাণঘাতী অবস্থা তৈরি করে। তাই এর বিপরীতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। মৌমাছি বা অন্যান্য পোকামাকড় দ্বারা দংশন করা লোকদের মধ্যে অল্প কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যানাফিল্যাক্সিস ডেভলপ করে। অ্যানাফিল্যাক্সিসের হবার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছেঃ

  • তীব্র চুলকানি এবং ফ্যাকাশে ত্বক সহ ফুলে যাওয়া
  • শ্বাস নিতে সমস্যা
  • গলা এবং জিহ্বা ফোলা
  • দুর্বল বা দ্রুত স্পন্দন হৃদস্পন্দন
  • বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়া
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

হুলা ফোটানোর পর যদি এসব উপসর্গ দেখা যায় তবে দেরি না করে ডাক্তার বা ইমিউনোথেরাপি নেয়ার জন্য কোনও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

একাধিক মৌমাছির দংশন

মৌমাছিরা সাধারণত অকারনে আক্রমণাত্মক নয়। এরা আত্মরক্ষার জন্যই আক্রমন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই আক্রমনে একটি বা কয়েকটি হুল ফোটার ঘটনা ঘটে। কিন্তু অনেকসময় চাকের এক ঝাক মৌমাছি একসাথে আক্রমন করে বসে। অনেক হুল ফোটার কারণে এর বিষক্রিয়া হয় বেশি। এটি তখন শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ তৈরি করতে পারে।

যেমন-

  • বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়া
  • মাথা ব্যাথা
  • চারপাশ ঘোরানো অনুভূতি (ভার্টিগো)
  • খিঁচুনি
  • জ্বর
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৌমাছির হুল ফোটানোর জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

যদি অ্যানাফিল্যাক্সিস বা একসাথে অনেক হুল ফোটানোর ঘটনা ঘটে, অথবা আক্রান্ত ব্যাক্তি শারীরিকভাবে মনে করেন, তবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ডাক্তার শারীরিক পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

ঝুঁকি বেশি কার?

সাধারণত বাচ্চারা মৌচাকে ঢিল ছুঁড়লে মৌমাছি তাড়া করতে পারে। মৌয়ালরা মধু সংগ্রহের সময় বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করলেও অনেকসময় হুল ফোটানোর শিকার হয়। এছাড়া বাসার কাছে মৌচাক থাকলে যে কারো আক্রমন হবার ঝুঁকি থাকে। অনেকসময় মৌমাছি অকারনেই আক্রমন করে বসে।

পরিশেষে

মৌচাক থেকে দূরে থাকুন, বাচ্চাদের দূরে রাখুন। আশেপাশে কিছু মৌমাছি উড়তে দেখলে নার্ভাস হবেন না, আস্তে সেখান থেকে সরে পড়ুন। মৌচাক কাটার সময় দক্ষ কারো সাহায্য নিন।