পেঁপের ১১ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই

পেঁপের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই

পেঁপের স্বাস্থ্য উপকারীতা

পেঁপের স্বাস্থ্য উপকারিতা

পেঁপে একটি বার মাসী ফল। যা কাঁচা ও পাঁকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। কাঁচা পেঁপে দেখতে সবুজ বর্ণের এবং পাঁকা পেঁপে দেখতে হলুদ বা পীত বর্ণের হয়ে থাকে।

এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। এখানে আমরা এই ফলের শীর্ষ কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো। নিচে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. কোলেস্টেরল কমায়

রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ সহ নানা ধরনের জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে। আমরা জানি পেঁপে’তে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বাধা প্রদান করে।

২. ওজন কমাতে সহায়তা করে

ওজন বৃদ্ধির ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই যাদের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করা প্রয়োজন তাদের খাদ্য তালিকায় পেঁপে রাখা আবশ্যক। কারণ পেঁপে’তে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। তাছাড়া পেঁপে’তে থাকা ফাইবার ওজন হ্রাস করার প্রক্রিয়াটি আরো সহজ করে তোলে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আমাদের দেহকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকলে আমাদেরকে অসুস্থ হয়ে পরতে হবে। এক্ষেত্রে পেঁপে’তে থাকা ভিটামিন সি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

পেঁপে খেতে মিষ্টি হলেও এতে সুগারের পরিমাণ খুবই কম থাকে। ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি দুর্দান্ত খাবার। তাছাড়া যাদের ডায়াবেটিস নেই তারা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে বেশি বেশি পেঁপে খেতে পারেন।

৫. চোখের সমস্যা দূর করে

পেঁপে’তে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। যা দৃষ্টি ক্ষয় রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। বেশি বেশি পেঁপে খেলে চোখের দৃষ্টি শক্তি সহজে কমে যায় না।

পড়ুন – শিশুর চোখ ভালো রাখতে যা করবেন

৬. বাত এর সমস্যা থেকে রক্ষা করে

বাত একটি কঠিন রোগ। যাদের শরীরে এই রোগটি বাসা বাধেঁ তাদের জীবনযাত্রা খুবই দর্বিষহ হয়ে উঠে। পেঁপেতে থাকা ভিটামিন সি হাড়ের জন্য খুবই ভালো। ফলে হাড়ে সহজে বাত বাসা বাধঁতে পারে না। তাছাড়া ভিটামিন সি প্রদান নাশক হওয়ায় হাড়ের যে কোন ধরনের প্রদাহ রোধ করতে এটি খুবই ফলপ্রসূ হয়ে থাকে।

৭. হজমে সহায়তা করা

আমরা প্রতিদিন কম বেশি তেল, চর্বি ও জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাবার গ্রহণ করে থাকি। এই সব খাবার গুলো আমাদের পেটের হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে থাকে। পেঁপে’তে ফাইবারের পাশাপাশি পেপাইন নামক এক ধরনের এনজাইম রয়েছে। যা পেটের হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।

৮. বার্ধক্যজনিত লক্ষণ গুলো প্রতিরোধ করে

আমরা সবাই চিরকাল তরুণ থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু তা কিছুতেই সম্ভব নয়। পেঁপে’তে প্রচুর ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই ও বিটা ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। ফলে সহসায় বয়সের ছাপ প্রকাশিত হয় না।

৯. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

পেঁপে হলো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, ফ্ল্যাভোনয়েড ইত্যাদির সমৃদ্ধ উৎস। যা দেহের কোষ গুলোকে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে থাকে। ফলে পেঁপে খেলে কোলন ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

১০. মানসিক চাপ কমায়

পেঁপে’তে ভিটামিন সি এর মতো বেশ কয়েকটি পুষ্টি বিদ্যমান থাকে। ফলে এটি স্ট্রেস হরমোন গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই মানসিক চাপ কমাতে পেঁপে খুবই কার্যকরী।